বিশ্ব-কাপ কোয়ালিফায়িং রাউন্দে

আগামী বছর বিশ্ব-কাপ ক্রিকেটের আসর (একদিনের আন্তর্জাতিক) বসতে চলেছে ইংল্যান্ড    ওয়েলসে তারই কোয়ালিফায়িং রাউন্ডের খেলা হয়ে গেলো জিম্বাবুয়েতে ২০১৮ সালের মার্চ মাস জুড়ে এককালের বিশ্বক্রিকেটের ত্রাস দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ান তথা একবারের রানার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এবারে এই টুর্নামেন্ট খেলতে হল কারণ নিয়ম অনুযায়ী আয়োজক দেশ আই সি সি ওডিআই চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ৭টি স্থানে থাকা দেশ সরাসরি খেলার  সুযোগ পাবে।  তাই ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান , শ্রীলংকা বাংলাদেশ এবং আয়োজক ইংল্যান্ড সরাসরি খেলবে কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিম্বাবুয়েকে এই বার কোয়ালিফায়িং খেলতে যেহেতু  মাত্র দুটি দেশ খেলতে পাবে বলে দুই ফাইনালিস্ট কেই শুধু সুযোগ দেওয়া হলো ফলে আফগানিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১৯ এর বিশ্বকাপে সুযোগ পেলো । কিন্তু ১৯৮৩ থেকে ২০১৫ অবধি টানা বার বিশ্বকাপ খেলা ২৬ বছরের টেস্ট খেলিয়ে দেশ জিম্বাবুয়ে সুযোগ পেলো না, এবং আরো  আশ্চর্যের ব্যাপার ১১ বার সম্পূর্ণ হয়ে ১২ বার পা দেওয়া এই প্রতিযোগিতায় এই প্রথম কোনো এসোসিয়েট সদস্য দেশ খেলতে  আসছে না  যা ক্রিকেটের বিস্তারের ক্ষেত্রে ধাক্কা বলেই মনে করা উচিত  তাছাড়া এই প্রতিযোগিতার সব ম্যাচ .ডি.আই  স্ট্যাটাস পায়  নি  কিছু খেলা শুধুই "লিস্ট " তালিকা ভুক্ত হয়েছে কারন আই সি সি-এর নিয়ম অনুজায়ি সমস্ত পূর্ণ সদস্য ও প্রথম চারটি এসোসিয়েট দেশ ও ডি আই খেলার অধিকারী(দেখুন https://pulse-static-files.s3.amazonaws.com/ICC/document/2017/09/24/4510678a-e031-4a9b-a402-397d4868adb6/ICC-Classification-of-Official-Cricket-Effective-1st-October-2017.pdf)। যেহেতু এই প্রতিযোগিতায় নেপাল ও নেদারল্যান্ড ও ডি আই খেলার অধিকারী নয় তাই এই দলের সাথে অন্যান্য দলের খেলা .ডি.আই  স্ট্যাটাস পায়  নি।
  
   এই প্রতিযোগিতার পরে  সুপার সিক্স খেলা চারটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ ছাড়াও ২০২২ সাল  অবধি .ডি.আই  খেলার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড   আরব আমিরশাহী।  এছাড়া সুপার সিক্স উঠতে না পারলেও প্লে অফে জিতে ২০২২ অবধি .ডি.আই  স্ট্যাটাস পেয়েছে নেপাল (প্রথম বারের জন্য ) নেদারল্যান্ড।  পাপুয়া নিউ গিনি  হং কং এই যোগ্যতা হারিয়েছে।  এখন তাদের ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগের ডিভিশন টু খেলে ফেরত আসতে হবে  হবে।  
  
    ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরেই সিদ্ধান্ত নেয় আই সি সি  যে ২০১৯ এর বিশ্বকাপে ১০ খানা দল খেলবে।  তার পর ২০১৭ সালে আফগানিস্তান আয়ারল্যান্ড টেস্ট খেলার সুযোগ পেলে আই সি সি ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফাই- ১২ খানা দল সুযোগ পায়।  ফলে এটা তখনি বোঝা গিয়েছিলো যে কম করেও দুটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে না।  শেষ চারটি টেস্ট খেলিয়ে  দেশ (::, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্থান, আয়ারল্যান্ড) , প্রথম চারটি এসোসিয়েট দেশ (হল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, হং কং , পাপুয়া নিউ গিনি) এবং সেকেন্ড ডিভিশনের দুটি দল  (নেপাল আর আরব আমিরশাহী) এই কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলে।  তার মধ্যে আবার আই সি সি ঘোষণা করে যে এই প্রতিযোগিতার সেই খেলা গুলি একদিনের আন্তর্জাতিক বলে ধরা হবে যেখানে দুটি দলেরই ডি  আই  স্ট্যাটাস আছে , কোনো একটা দলের  না থাকলেই তা "লিস্ট " হয়ে যাবে ( কোন খেলা  গুলি  কি  স্ট্যাটাস পেয়েছে জানতে এই লিংক দেখুন :https://www.icc-cricket.com/cricket-world-cup/qualifier-fixtures). 

 গ্রূপ দলের খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি ম্যাচেই জিতে যায় ,আয়ার্ল্যাণ্ড টি আরব আমির শাহী ২টি  খেলায়  জিতে সুপার সিক্স যায়।  নেদারল্যান্ড  পাপুয়া নিউ গিনি বিদায় নেয় প্লে অফ খেলায় চলে যায়।  
 গ্রূপ বি তে জিম্বাবুয়ে স্কটল্যান্ড অতি সহজে গেলেও আফগানিস্তান খুব কান ঘেঁষে সুপার সিক্স যায়।  নেপাল আর হং কং  বিদায় নেয় প্লে অফে খেলতে যায়।  নেদারল্যান্ড ৭ম নেপাল ৮ম স্থান পেয়ে ২০২২ অব্দি একদিনের স্টেটাস পেয়ে যায়।    

ওদিকে সুপার সিক্স আফগানিস্তান ঘুরে দাঁড়ায় ফাইনালে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে হারিয়ে দেয়  যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তান তার আগেই বিশ্বকাপে উঠে গেছে  

প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের ৩৮০/ (বনাম নেপাল) সর্বোচ্চ রান (যদিও ম্যাচ "লিস্ট " ) ,  একই দলের টেলরের ৪৫৭ প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান  স্কটল্যান্ডের ম্যাকলোয়েডের করা ১৫৭ (বনাম আফগানিস্তান) প্রতিযোগিতার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। আফগানিস্তানের মুজিবুর রেহমান রশিদ খান সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিয়েছে। একই  উইকেট নিয়েছে  স্কটল্যান্ডের এস এম শরীফ কিন্তু এক ম্যাচ কম খেলে ( ম্যাচে ১৭ ) . সেরা বোলিং আরব আমির সাহির রোহান  মুস্তাফার (/২৬)  নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে।  

আই সি সি ক্রিকেট বিস্তারের  রীতি মেনে  ২৭ নম্বর দল  হিসেবে ( দেশ হিসেবে ২৪ তম কারন বাকি  তিনটি দল দেশ নয় , সম্মিলিত দল  ) নেপাল ওডিআই খেলার  সুযোগ তো পেলো কিন্তু দুটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ (যার একজন বার বিশ্বকাপ খেলেছে ) বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা পেলো না।  তাছাড়া ১১ বার কিন্তু অন্তত : একটা হলেও এসোসিয়েট দেশ বিশ্বকাপ খেলেছে।  তা এবার হলো না।  আশা করি আই সি সি ভাববে  

#এই লেখাটি ইংলিশে পড়তে এখানে টিপুন
               


No comments:

Post a Comment