আগামী ১৪ই জুন ভারতের বিরূদ্ধে টেস্ট- এ অভিষেক হতে চলা আফগান দল দেখিয়ে দিলো যে তারা হারতে নয় লড়তে এসেছে। ১৮ বছরের পুরোনো টেস্ট খেলিয়ে দল বাংলাদেশ , যারা বিগত প্রায় এক দশক ধরে সীমিত ওভারের খেলায় ক্রমাগত নিজেদেড় যোগ্যতা প্রমান করে আসছে , তাদের টি-টোয়েন্টি খেলায় ৩-০য় হারিয়ে হোয়াইট ওয়াশ করে দিলো আফগানেরা।
দেরাদুনে আফগান দল মুখোমুখি হয়েছিল বাংলদেশের। এটাই প্রথম উত্তরাখণ্ডে কোনো আন্তর্জাতিক খেলা হচ্ছে। একসময়ে বহু ব্রিটিশ খেলোয়াড় এখানে থাকতেন কিন্তু স্বাধীনতার পরে অঞ্চল ক্রিকেটে কৌলিন্য হারায়। বর্তমান আবার তাদের যাত্রা শুরু হলো।
৩রা জুন প্রথম খেলায় আফগানিস্তান প্রথম ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান তোলে। প্রথম দিকের ব্যাটসম্যানরা রান পেলেও তাদের স্ট্রাইক রেট ভালো ছিল না। কিন্তু ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সামিউদ্দৌলা শেহনবারি তিনটে ছয় মেরে ১৮ বলে ৩৬ রান করেন, তাকে সহযোগিতা করেন ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সফিকউদৌল্লা মাত্র ৮ বলে ২৪ রান করে। তিনিও ৩ খানা ছয় মারেন। জবাবে বাংলাদেশ ১৯ ওভারে মাত্র ১২২ রানে আউট হয়ে যায়। শাপুর জর্ডন ৪০ রানে ৩ উইকেট নেন। রশিদ খান মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবীর ২১ রানে ২ উইকেট তাদের যোগ্য সঙ্গত দেয়। এই ভাবে প্রথম খেলায় আফগানিস্তান ৪৫ রানে জিতে যায়।
দ্বিতীয় খেলায় (৫ই জুন) বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ২০ ওভারের ক্রিকেটের অযোগ্য ব্যাটিং করেন (৪৮ বলে ৪৩ রান , ৫ টা চার ) ।এই ম্যাচে রশিদ খান আরো ভয়ানক হয়ে ওঠেন। মাত্র ১২ রানে ৪ উইকেট নেন। নবীও ১৯ রানে ২ উইকেট নেন। ফলে বাংলাদেশ মাত্র ১৩৪ রান তোলে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে। জবাবে আফগানিস্তান ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট খুইয়ে ১৩৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়। সামিউদ্দৌলা শেহনবারি আবার ৪১ বলে ৪৯ রান করেন। নবী এই ম্যাচে ব্যাট হাতেই বিদ্ধংসী হয়ে যান। তিনি মাত্র ১৫ বলে ৩১ রান করেন।
তৃতীয় ও শেষ খেলায় (৭ ই জুন) আফগানিস্তানকে তুলণামূলক লড়াইয়ের সামনে পড়তে হয়। তারা প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওয়াবের ৬ উইকেটে ১৪৫ রান তোলে। সামিউদ্দৌলা শেহনবারি এই ম্যাচে ২৮ বলে ৩৩ করে অপরাজিত ছিলেন। গোটা সিরিজে মাত্র ৮৭ বলে তার সংগ্রহ ১১৮ রান। ৮ খানা ছয় তিনি মেরেছেন। জবাবে বাংলাদেশ শেষ বল অবধি লড়ে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান তোলে। মুশফিকুর রহিম (৩৭ বলে ৪৬ ) এবং মাহমুদল্লা (৩৮ বলে ৪৫ ) অনেক লড়েও জেতাতে পারেননি। শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল। রশিদ খান তা তুলতে দেননি। এই খেলায় তিনি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। সিরিজে তিনি ১১ ওভারে ৪৯রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন।
বাংলাদেশ যদিও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে একাধিক টেস্টে না খেলা দেশের কাছে হেরেছিল কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশের টেস্ট খেলার বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর এবং যে সব টেস্ট না খেলিয়ে দেশের কাছে হেরেছিল তারা খুব একটা পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশের থেকে । আজকের এই সিরিজে একটাও ম্যাচ না জেতা বাংলাদেশের কাছে বিড়ম্বনার কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে নতুন যুগের নতুন ভরসা।
No comments:
Post a Comment