গোটা ভারত যখন আই পি এলের উত্তাপ নিতে ব্যস্ত,
তখন কাউন্টী ক্রিকেট খেলতে ব্যস্ত ভারতীয় দুই তারকা ইশান্ত শর্মা ও চেতেশ্বর
পূজারা । ২০১৮ সালের কাউন্টীতে ইশান্ত খেলছেন সাসেক্স-এর হয়ে আর পূজারা
খেলছেন ইয়র্কশায়েরের হয়ে । পূজারার ম্যাচ ভেস্তে গেছে বৃষ্টিতে কিন্তু ইশান্ত
প্রথম ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন।
মজার ব্যাপার ব্যাট হাতে ১০ নম্বরে নেমে মাত্র ২৯ বলে ২২ করেছেন তিনটি চার ও একটি
ছয়ের সাহায্যে। তার দল যদিও ড্র করেছে ।
প্রথম রাউন্ডে
বৃষ্টির জন্য খেলা গুলি শুরু হতে দেরি হয় । নরদাম্পটন ও মিডলসেক্স এর খেলা
লো-স্কোরিং হয় । হ্যারিস(৫/৯) ও মারটঘ(৪/২৭) এর
দাপটে নরদাম্পটন মাত্র ৭১ রানে শেষ হয়ে যায়। দ্বিতিয় ইনিংসেও তারা করে
মাত্র ১৪২। হ্যারিস(৪/৩৯) ও মারটঘ (৪/৩৬) এবার তাদের বিভীষিকা হয়ে ওঠে। মিডলসেক্স
(২১৪ ও ১৫৯ ) যদিও এমন কিছু ভাল ব্যাট করেনি । নরদাম্পটন-এর হাটন প্রথম ইনিংসে ৫৪
রানে ৫ উইকেট নেয়।
অন্যদিকে কেন্ট ও
গ্লস্টারশায়রের খেলাও ছিল লো-স্কোরিং। কেন্ট মাত্র ৬৪ ও ১৫৩ রান করে। জবাবে
গ্লস্টারশায়র ১১০ ও ৫ উইকেটে ১০৮ রান করে ম্যাচ জিতে যায়।
ল্যাঙ্কাশায়ার ১৫৮ ও ৭৩
করে নটিংহ্যামশায়ারের বিরুদ্ধে। নটিংহ্যামশায়ার ২২২ করে প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয়
ইনিংসে তাদের দরকার ছিল ১০ রান। ঐ রান তুলতে তারা ৪ উইকেট হারায় ।
হ্যাম্পশায়ার ভিন্স ও
বারগ (দুজনেই ৭৫ করে)-এর ব্যাট এর জোরে ২৯০ রান তোলে । তারা দ্বিতীয় ইনিংসে তোলে ২৪৪।
অ্যাবট ৫১ করে । ওরকেস্টারশায়েরের পক্ষে
লিচে দু-ইনিংস মিলিয়ে ৯৭ রানে ৭ উইকেট নেয় । ওরকেস্টারশায়ের ২১১(কক্স ৬৫) ও ১২৭ রান করে।
অ্যাবট দু-ইনিংস মিলিয়ে ৯০ রানে ৭ উইকেট নেয় ।
ওয়ারউইকশায়েরের অ্যামব্রস ৮১ করলে তারা ২৯৯ রান
তোলে। ওয়াইজ ৫৬ রানে ৪ উইকেট আর ইশান্ত শর্মা ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেয় । জবাবে মাত্র
১৯৪ রানে ৭ উইকেট পরে গিয়েছিল সাসেক্স-এর। এরপর এখনও টেস্ট না খেলা দক্ষিণ
আফ্রিকার ফাস্ট-বোলিং অলরাউন্ডার ওয়াইজ (যার ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে ৯ খানা
সেঞ্চুরি সহ ৪৫০০এর বেশি রান আছে) ১০৫ বলে ১০৬ রান করে, ব্রাউন করে ৯১ । ফলে
সাসেক্স তোলে ৩৭৪। ওয়ারউইকশায়েরের ওলী স্টোন ৮০ রানে ৮ উইকেট নেয়। এটাই তার প্রথম
শ্রেণিতে এক ইনিংসে সেরা বোলিং( আগে ছিল ৫/৪৪)। এরপর ওয়ারউইকশায়ের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮৭ করে।
ইশান্ত ২ উইকেট নেয় ।
ইয়র্কশায়ারের সাথে এসেক্স এর খেলাটা হয়নি । ফলে
পুজারার ব্যাট হাতে মাঠে নামা হয়নি ।
বৃষ্টির জন্য লো-স্কোরিং হয়ে গেছে প্রথম রাউন্ড। মোট ৮ খানা হাফ সেঞ্চুরি ও মাত্র একটি সেঞ্চুরি হয়েছে (যা আবার করেছেন একজন
বোলার মানে ওয়াইজ ৯ নম্বরে নেমে)। যেখানে ৭ জন বোলার এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছে ।
মোট ১৬ খানা সম্পূর্ণ ইনিংসের মধ্যে ৩ খানা শেষ হয় ১০০-র কমে। আরও ৩ খানা ১৫০ এর
কমে গেছে। ২০০ করতে পারেনি আরও ৩ খানা। ৩০০ করেছে ১ খানা ইনিংস। অর্থাৎ ৫৫% ইনিংস
২০০ করতে পারেনি । আসলে এমনিতেই ইংল্যান্ড-এ যখন তখন বৃষ্টি হয় যা ফাস্ট বা
মিডিয়াম পেসারদের সাহাজ্য করে, তবে এখানকার খেলোয়াড়রা সুইং বল খেলতে পারে । তারপরও
এই ঘটনা কি আসলে সুইং খেলার দক্ষতা কমে যাওয়ার চিহ্ন? তার মানে কি ফেদার-বেড
উইকেটে খেলে খেলে অভ্যেস হয়ে গেছে? তা হলে আগামি দিন খুব-ই মুস্কিলের। এখন দ্বিতীয়
রাউন্ডের অপেক্ষা।
এখানে উল্লেখ যোগ্য বিরাট কোহলি সম্ভবতঃ আই পি
এল শেষ হলে কাউন্টি খেলতে আসতে পারেন বলে জানা গেছে । যানিয়ে খুব একটা ভাল মন্তব্য
করেননি প্রাক্তন ব্রিটিশ ফাস্ট-বোলার বব উইলিস। কারন আই পি এল এর পর ভারতের
ইংল্যান্ড সফর আছে ।
এদিকে
আজ থেকে সেকেন্ড ইলেভেন ও মাইনর কাউন্টি শুরু হচ্ছে ।
# এই লেখাটি ইংলিশএ পড়তে এখানে টিপুন...।।
#এক নজরেঃসময়টা বেশ ভালই যাছে
ইশান্তের
#আরও পরতেঃ এক নজরে আই পি এল ২০১৮ – প্রথম ১৪ ম্যাচ।

No comments:
Post a Comment